ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের দল ‘বি’ইয়াচাদ’ অভিযোগ করেছে যে, লিকুদ পার্টির প্রতিনিধিরা ভোটকেন্দ্রে অবৈধভাবে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করছেন। তারা এই তথ্য স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে দলের কাছে পাঠাচ্ছেন।
বি’ইয়াচাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে থাকা লিকুদ পার্টির প্রতিনিধিরা একটি বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করে ভোটারদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন। দলটি দাবি করেছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনী আইন এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার পরিপন্থী।
এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করার পর, ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (সিইসি) জানায়, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া দাবিগুলো সঠিক নয়। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা এখন পর্যন্ত এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন পায়নি।
সিইসি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় মধ্য ইসরায়েলের গ্রামীণ জনবসতির ভোটকেন্দ্রে ছবি তোলার বিষয়ে জানিয়েছে। সেখানে দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা ছবি তুলছিলেন, তবে নিয়মকানুন ব্যাখ্যা করার পর তিনি ছবি তোলা বন্ধ করেন।
কমিশন আবারও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনো ভোটার ভোটকেন্দ্রে এসেছেন কি না কিংবা ভোট দিয়েছেন কি না, সে তথ্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠাতে পারবেন না। স্মার্টফোন অ্যাপ ব্যবহার করে এ ধরনের তথ্য আদান-প্রদানও নিষিদ্ধ।
গত সপ্তাহে, ইসরায়েলের হাইকোর্ট অব জাস্টিস রায় দিয়েছেন যে, নির্বাচনের দিনে ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তারা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত পর্যবেক্ষকেরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোট দেওয়া মানুষের সংখ্যা গণনা করতে পারবেন না। একই সঙ্গে সেই তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
লিকুদ পার্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা একটি স্মার্টফোন অ্যাপ তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রে থাকা দলটির প্রতিনিধিরা স্বতন্ত্র ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করে নির্বাচনী প্রচার সদর দফতরে পাঠাতে পারেন। আদালতের রায়ের পর এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও আদান-প্রদান নির্বাচনী আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হচ্ছে।