দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকায়, সরকার ১৫০ কূপ খনন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩১ সালের মধ্যে আরও ১৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, জরিপ ও কূপ খননে ব্যাপক বিনিয়োগ করা হলে বড় সাফল্যের সম্ভাবনা রয়েছে। ১০ বছর আগে দেশে দৈনিক গ্যাস উত্তোলন ছিল ২৬০ কোটি ঘনফুটের বেশি, যা বর্তমানে কমে গেছে।
শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের চাহিদা মেটাতে এলএনজির উপর নির্ভরতা বাড়ছে। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্ববাজারে এলএনজির সরবরাহ কমে গেলে দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি নতুন এবং পুরনো কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৩২টি কূপ খনন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেছে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান জানান, আগামী ৪ বছরে আরও ১০০ কূপ খননের কর্মসূচি চলবে। তিনি বলেন, ‘ভোলায় কিছু কূপ খননের অনুমোদন হয়েছে এবং অন্যান্য কূপ খননের প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।’
ভূতত্ত্ববিদরা জানান, বাংলাদেশের ব-দ্বীপ অঞ্চলে গ্যাসের মজুত ভালো। তারা বলেন, অন্যান্য দেশে ৫-১০টি কূপ খননে ১টিতে গ্যাস পাওয়া যায়, কিন্তু বাংলাদেশে ৩ কূপ খননেই ১টিতে গ্যাসের সন্ধান মেলে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরূল ইমাম বলেন, ‘অনুসন্ধান ও খনন কাজ সরকারের অগ্রাধিকারে থাকা উচিৎ। গ্যাস আবিষ্কার হলে তা থেকে ২০ থেকে ৩০ গুণ লাভ হতে পারে।’ বর্তমানে ৪০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে দৈনিক সরবরাহ ২৬০-২৬৫ কোটি ঘনফুট।