কক্সবাজারের ইনানী এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশু ও নারীও রয়েছে। শনিবার সকাল পৌণে সাতটার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। নিহতদের মধ্যে ৬ জন একই পরিবারের সদস্য। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় চারজনকে ঢাকা পাঠানো হচ্ছে।
পুলিশ টুপটুপ রিসোর্টের ম্যানেজার সুমনকে আটক করেছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রিসোর্টের কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও এসি ও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছে ঢাকার বনশ্রী এলাকার ইশরাত জাহান মালিহা, মিলিতা মেহেজাবিন আলভী, খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা, চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির এবং পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফায়িজান আহম্মেদ।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, কাঠের রিসোর্ট হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, এ ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রিসোর্টের মালিক পলাতক রয়েছেন। টুপটুপ রিসোর্টে মোট ৯টি রুম ছিল এবং অগ্নিকাণ্ডের সময় সেখানে ২৭ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। ফায়ার সার্ভিস জানায়, জুন মাসে রিসোর্টটিকে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা উন্নত করতে সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তা উপেক্ষা করা হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, মেরিন ড্রাইভের আশপাশে গড়ে ওঠা বেশিরভাগ রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজালাল চৌধুরী দাবি করেছেন, দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এলাকায় স্থায়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন জরুরি।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানিয়েছেন, অগ্নি নির্বাপণের ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য রিসোর্টটিকে সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তা মানা হয়নি। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দ্রুত অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে।
কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইনানীর এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর পর্যটন কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।