রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন সংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি জানান, মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে হামলার আশঙ্কা থাকায় আত্মরক্ষার স্বার্থে তিনি ও তার নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি ও লাইসেন্সকৃত অস্ত্র বহনের প্রেক্ষাপট নিয়ে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, একটি স্পর্শকাতর ঘটনার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে প্রচারিত ভিডিও ও খণ্ডিত শিরোনাম সামগ্রিক প্রেক্ষাপটকে মূল্যায়ন করে না, ফলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গেন্ডারিয়ায় মাদক কেনাবেচা নিয়ে স্থানীয় অধিবাসীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়ে আসছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এই এলাকা মাদক সিন্ডিকেটের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে।
গত জুন মাসে মাদক-সংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন নিরীহ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করেন। তিনি জানান, পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্র প্রদান করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কর্মসূচির সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সূত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর অস্ত্র প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী মারমুখী ভঙ্গিতে তাদের দিকে ধেয়ে আসে।
তিনি জানান, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা থাকায় তিনি এবং তার নিরাপত্তারক্ষীরা অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন, তবে ঘটনার পর অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়। লাইসেন্সপ্রাপ্ত এই আগ্নেয়াস্ত্রের প্রদর্শনী কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থে আইনি কাঠামোর মধ্যে ছিল।
পুলিশের উপস্থিতিতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়, যেখানে ৪-৫টি অবৈধ মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয় এবং ৬ জন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যম খণ্ডিত তথ্য ও ছবির মাধ্যমে অপতথ্য পরিবেশন করেছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী।
তিনি গণমাধ্যমকে সংবাদ প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানান এবং মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদকমুক্ত ঢাকা-৬ আসন নিশ্চিত করা তার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।