তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে টানা ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যার কারণে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে প্রবল বৃষ্টির ফলে রাস্তাঘাট, আন্ডারপাস, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়ে অন্তত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
ইস্তাম্বুল গভর্নরের কার্যালয় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুরাত কুরুম জানিয়েছেন, এটি ইস্তাম্বুলে বিগত ৮৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের ঘটনা।
বুধবার রাতের বৃষ্টিতে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় চরম যানজট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। কিছু এলাকায় পানির তোড়ে গাড়ি ভেসে যায় এবং পরস্পরের ওপর আছড়ে পড়ে। উদ্ধারকর্মীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়া ৩ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ইস্তাম্বুলের ফাতিহ এলাকায় পার্কে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে পা পড়তেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সারিয়ের এলাকায় ফুটপাতে পিছলে মাথায় আঘাত পেয়ে ৩৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
কাঘিতহানে এলাকার একটি পার্কের পাশে তৃতীয় আরেক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল। এছাড়া, পার্শ্ববর্তী সাকারিয়া প্রদেশে নদীর তীরবর্তী একটি দোতলা বাড়ি ধসে পড়েছে এবং কোকেলি প্রদেশে এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছে।
মন্ত্রী মুরাত কুরুম এই বিপর্যয়কে জলবায়ু সংকটের সরাসরি ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তন আর ভবিষ্যতের কোনো বিষয় নয়, এটি আজকের বাস্তবতা।"
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক চক্রকে বদলে চরম রূপ দিচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় শুক্রবার পর্যন্ত ইস্তাম্বুলের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং বেশ কিছু সরকারি কর্মচারীকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন রাস্তায় মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।