পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামে এক অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে চাঁদনী নামের এক মেয়ে ছেলে সেজে লাবনী নামের অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করেন। এই ঘটনা শুক্রবার বিকেলে ঘটে এবং পরে এলাকাবাসীর সালিস বৈঠকে বিচ্ছেদ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদনী আক্তার (বর) কাবিননামায় নাম পরিবর্তন করে রাসেল নাম ব্যবহার করেন। বিয়ের পর জানা যায়, উভয়েই সমকামী এবং নিজেদের সম্পর্ককে বৈধ করার জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
সালিস বৈঠকে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা, স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা কনে লাবনীকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন এবং চাঁদনীকে মারধর করার সিদ্ধান্ত নেন। মাহফুজ নামের এক ব্যক্তি বাঁশের বেত দিয়ে চাঁদনীর শরীরে আঘাত করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ বলেন, 'গ্রামবাসীর শাসন ঠিক আছে, তবে মধ্যযুগীয় কায়দায় শাসন করাটি ঠিক হয়নি। দেশে তো আইন বলতে কিছু আছে।'
এক প্রত্যক্ষদর্শী হাসান জানান, সালিস চলাকালে চাঁদনীকে কান ধরে উঠবস করানো হয় এবং তার প্যান্ট শার্ট পরার কারণে তাকে নিষেধ করা হয়। পলাশবাড়ী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহফুজ আহমেদ বলেন, 'এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করার স্বার্থে তওবা পড়ানো হয়েছে।'
পলাশবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, 'বিষয়টি আমরা জানি না।' পলাশবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরোয়ার আলম খান বলেন, 'ঘটনাটি ফেসবুকে দেখলাম, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'