মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ রেখেছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় ভোরে, ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি মানচিত্র প্রকাশ করে হরমুজ প্রণালির জায়গায় নিজের নাম বসান।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরানের পক্ষ থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার পর এসেছে। তবে ইরান জানিয়েছে, এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু শর্ত মেনে চলতে হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন আলোচকদের কাছে সাত দিনের একটি পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এই পরিকল্পনায় যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব রয়েছে।
ইরানের শর্ত হলো, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে এবং তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হবে। ইরান দাবি করে, এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে তারা আরও বেশি পরিমাণে অপরিশোধিত তেল রফতানি করতে পারবে।
শুক্রবার জাতিসংঘে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র শর্তগুলো মেনে নিলে সাত দিনের কাউন্টডাউন শুরু হবে। তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চুক্তিতে পৌঁছানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আন্তরিকতা থাকলে, এখন সবকিছু প্রস্তুত রয়েছে।'
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ চলছে। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের শর্তগুলো পূরণ করবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান।
ট্রাম্পের জন্য ভৌগোলিক নাম পরিবর্তনের ঘটনা নতুন নয়। তিনি রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তন করে নিজের পছন্দের নাম ব্যবহার করেছেন। চলতি মাসের শুরুতে নিউ মেক্সিকোর একটি মানচিত্রে ‘মেক্সিকো’ শব্দটি কেটে ‘আমেরিকা’ লেখা হয়েছিল।