ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা, আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে, অনলাইন জুয়া নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) তিনি একটি সাময়িক আদেশে সই করেন, যার মাধ্যমে সব ধরনের স্পোর্টস বেটিং ও অনলাইন ক্যাসিনো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
লুলা, যিনি চতুর্থ মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য নির্বাচনে লড়ছেন, বলেন, অনলাইন জুয়াকে তিনি ‘ক্যানসার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা এই টিউমার সরাব, নইলে এটি আমাদের ধ্বংস করে দেবে।” ২০১৮ সালে দেশে অনলাইন জুয়া বৈধ করা হয়েছিল, তবে লুলার মতে, এই খাতের বিস্তার অনেক পরিবারের আয় কমিয়ে দিচ্ছে।
বর্তমানে লুলার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৮০ বছর বয়সী লুলা ও ফ্লাভিওর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চিত্র উঠে এসেছে।
লুলা জানান, অনলাইন বেটিংয়ের কারণে অনেক পরিবার তাদের সম্পদ হারাচ্ছে। তিনি বলেন, “ব্রাজিলের পরিবারগুলোর আয় ও জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে বেটিং কোম্পানিগুলোকে মুনাফা করতে দেওয়া হবে না।”
লুলার এই আদেশ কার্যকর রাখতে হলে ১২০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল তেমেরের প্রশাসনের সময় অনলাইন বেটিং চালু হয়েছিল, কিন্তু বলসোনারোর শাসনামলে এটি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই বিস্তৃত হয়েছে।
এছাড়া, লুলা নির্দিষ্ট অডসের বেটিং বা ‘ফিক্সড-অডস বেটিং’-এর সঙ্গে জড়িত অপরাধের শাস্তির বিধান রেখে একটি বিলেও সই করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি অনলাইন বেটিং শিল্পের সমালোচনা করেন, অভিযোগ করেন যে এই শিল্প আসক্তিকে মুনাফায় পরিণত করছে।
ফ্লাভিও বলসোনারো লুলার পদক্ষেপকে ‘জনতুষ্টিবাদী, ভণ্ডামিপূর্ণ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেছেন। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত একটি জরিপে দেখা গেছে, ব্রাজিলের প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৫৯ দশমিক ৯ শতাংশ ইন্টারনেটভিত্তিক বেটিং নিষিদ্ধ করার পক্ষে।