ব্রাজিলের বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ডানপন্থী সেনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারোকে পরাজিত করে একটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছেন। ৯ অক্টোবরের প্রথম রাউন্ডে পরাজয়ের পর তিনি দ্বিতীয় রাউন্ডে ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে এই সাফল্য পান।
ব্রাজিলের সুপ্রিম ইলেক্টোরাল কোর্ট স্থানীয় সময় রাত ৯:১৩ টায় (জিএমটি ০০:১৩) লুলার বিজয় ঘোষণা করে। মোট ৫১.৪৯ মিলিয়ন ভোট পড়ে, যেখানে বোলসোনারোর ভোট সংখ্যা ৪৮.৬৮ শতাংশ বা ৪৮.৮ মিলিয়ন। দুই প্রার্থীর মধ্যে ২.৬ মিলিয়নের বেশি ভোটের ব্যবধান ছিল।
লুলার বিজয়ের ফলে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন, কারণ আধুনিক ব্রাজিলের ইতিহাসে কেউ প্রথম রাউন্ডে হারার পর দ্বিতীয় রাউন্ডে জয়ী হননি। তবে, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভোটার দমন সম্পর্কিত অভিযোগ উঠেছে। কিছু এলাকায় গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে লুলার কর্মী শ্রেণীর ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ কমে যায়।
দক্ষিণাঞ্চলের ভারী বৃষ্টিপাতও বোলসোনারোর শক্তিশালী এলাকা হিসেবে পরিচিত কিছু স্থানে ভোটারদের উপস্থিতি কমিয়ে দিয়েছিল। উভয় প্রার্থীর পক্ষ থেকেই সুপ্রিম কোর্টে ভোটের সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়। ভোটের সময় ৭ টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।
লুলার এই বিজয় লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার পদটি ধরে রাখবে এবং অঞ্চলের ডানপন্থীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ জয়কে অস্বীকার করবে। সম্প্রতি, প্রতিবেশী দেশগুলোতে ডানপন্থী নেতারা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন।
লুলা, যিনি ৮০ বছর বয়সে ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারিতে শপথ নেবেন, তার চতুর্থ অ-অবিরত মেয়াদে প্রবেশ করছেন। তিনি ২০০২ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দুইবার এবং ২০২২ সালে তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন।
লুলার প্রতিদ্বন্দ্বী বোলসোনারো, যিনি এখন ২৭ বছরের কারাদণ্ডে রয়েছেন, তার পিতার নির্বাচনে পরাজয়ের পর একটি অভ্যুত্থানের পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন। লুলার বিজয় তাকে ব্রাজিলের আধুনিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে, তার চতুর্থ মেয়াদে আইনগত অগ্রগতির উদ্যোগগুলি ডানপন্থী কংগ্রেসের কারণে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।