ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ফাতাহ নেতা মারওয়ান বারঘুতিকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান রো খান্না। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের নিজেদের নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে দেওয়া বক্তব্যে খান্না উল্লেখ করেন, বারঘুতি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি বলেন, 'আজ আমি ইসরায়েলি কারাগার থেকে মারওয়ান বারঘুতির মুক্তির আহ্বান জানাচ্ছি। ফিলিস্তিনিদের নিজেদের নেতা বেছে নিতে হবে।'
ক্যালিফোর্নিয়ার ১৭তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের এই ডেমোক্র্যাট নেতা বারঘুতির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে বলেন, তার 'অনন্য গ্রহণযোগ্যতা' রয়েছে। অনেক ফিলিস্তিনির কাছে বারঘুতি দুর্নীতিমুক্ত, শক্তিশালী ও ধর্মনিরপেক্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত।
খান্না আরও বলেন, বারঘুতির মুক্তি ভবিষ্যতে ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে কূটনৈতিক উদ্যোগ এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে। তিনি দাবি করেন, সাবেক কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাও বারঘুতির মুক্তির পক্ষে মত দিয়েছেন।
বারঘুতির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জন্য ক্ষমা বা নৈতিক দায়মুক্তি দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন খান্না। তিনি বলেন, 'বারঘুতিকে মুক্তি দেওয়া মানে তিনি যে অপরাধ করে থাকতে পারেন, সেগুলোর জন্য তাকে ক্ষমা করে দেওয়া নয়।'
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বারঘুতির বিচারপ্রক্রিয়ার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। খান্না বলেন, বারঘুতির মুক্তিকে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাব্য একটি উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি অতীতের শান্তি প্রক্রিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, 'আইজ্যাক রবিন ও ইয়াসির আরাফাতের মধ্যে শান্তি উদ্যোগের মতো, উত্তর আয়ারল্যান্ডের শান্তি প্রক্রিয়াতেও সংঘাতে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।'
খান্না বলেন, 'বারঘুতিও বারবার একই ধরনের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক ভবিষ্যতের কথা বলেছেন। ইসরায়েল-ফিলিস্তিনে ন্যায়সংগত শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের একটি সত্য ও পুনর্মিলন কমিশনের প্রয়োজন হবে।'
তিনি শেষ করেন, 'তবে আপাতত ফিলিস্তিনিদের নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও শান্তি প্রক্রিয়ায় কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। বারঘুতিকে মুক্তি দিন।'