ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করবে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, হুতি হামলার কারণে সৌদি আরবের কিছু সামরিক প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তুরস্কের এনটিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য করা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন, রিয়াদও এই সংঘাতে জড়াতে চায় না।
ফিদান জানান, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তবে তিনি এসব প্রস্তাবের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
এদিকে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করছে এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালিও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে তুরস্কের সামরিক সহায়তার বার্তা এসেছে। পাকিস্তানও সৌদি আরবের নিরাপত্তায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য তারা ‘যেকোনো মাত্রায়’ সহায়তা করবে।
‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে পরিচিত ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিটি গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল নীতি হলো, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
তবে এই প্রতিরক্ষা জোটের কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে, বিশেষ করে এটি ন্যাটোর মতো সমন্বিত সামরিক কাঠামো নেই।