রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

সৌদির কাছে এফ-৩৫ বিক্রিতে ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের শঙ্কা

সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ বিক্রিতে ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রশাসন।

সৌদির কাছে এফ-৩৫ বিক্রিতে ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের শঙ্কা

সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই চুক্তির মূল্য প্রায় ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে সৌদি আরব হবে মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় দেশ, যিনি এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পাবে, যা ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ও আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানায়, রিয়াদের কাছে ৪৮টি এফ-৩৫ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমান এবং ৪৯টি এফ১৩৫-পিডব্লিউ-১০০ ইঞ্জিন বিক্রির প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার জন্য মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমোদন পেলেও যুদ্ধবিমানগুলো সৌদি আরবের হাতে পৌঁছাতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

মার্কিন আইনে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের ‘কোয়ালিটেটিভ মিলিটারি এজ’ বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই কারণে সৌদি আরবকে এফ-৩৫ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দাবি, এই বিক্রিতে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য পরিবর্তিত হবে না।

এদিকে, সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের সামরিক সহযোগিতার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ রয়েছে। এর আগে চীনের সঙ্গে সামরিক সম্পর্কের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছিল।

এফ-৩৫ বিক্রির বিষয়টি একসময় সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্তের সঙ্গে যুক্ত ছিল, কিন্তু বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। সৌদি তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলার পাশাপাশি লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হুতিদের অগ্রযাত্রা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এফ-৩৫ বিক্রির ফলে সৌদি আরবের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়বে। ২০২৫ সালে ওয়াশিংটন রিয়াদের জন্য প্রায় ১৪২ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রতিরক্ষা প্যাকেজও অনুমোদন করেছিল। এফ-৩৫ স্টেলথ প্রযুক্তি, উন্নত সেন্সর ও বহুমুখী যুদ্ধক্ষমতার কারণে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।

বিজ্ঞাপন