ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে শিরোপাহীন মৌসুম কাটালেও ব্যালন ডি’অর জয়ের যোগ্যতা রয়েছে বলে দাবি করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ফ্রান্স ফুটবলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড বলেন, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জয়ের অন্যতম দাবিদার তিনি।
২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে জানান, ব্যালন ডি’অর মূলত ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতি, তাই দলগত ট্রফি না জিতলেও তা জয়ের সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, "আমি বিশ্বাস করি, এ বছর আমি এটি জিততে পারি। এটি আমার অন্যতম লক্ষ্য এবং স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যও।"
এমবাপ্পে বলেন, "অনেকে বলছেন, আমি কোনো ট্রফি জিতিনি। কিন্তু এটি তো ব্যক্তিগত পুরস্কার। আমি কখনো দেখিনি কোনো ব্যালন ডি’অর বিজয়ী সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়েছেন।" তিনি আরও যোগ করেন, "কেউ কি কখনো ১০০ শতাংশ ভোট পেয়েছে? এর অর্থ হলো, সবসময়ই কেউ না কেউ থাকবেন, যিনি মনে করবেন বিজয়ী এই পুরস্কারের যোগ্য নন।"
গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৫ গোল এবং লা লিগায় ২৫ গোল করেছেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা ২২-এ গিয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। তবে সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে ফ্রান্স।
এমবাপ্পে বলেন, ব্যালন ডি’অর নিয়ে তার ধারণা তৈরি হয়েছে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর যুগ থেকে। তিনি মনে করেন, এই পুরস্কার সাধারণ খেলোয়াড়দের জন্য নয়, বরং যারা নিজেদের আলাদা করে প্রমাণ করেন তাদের জন্য।
এমবাপ্পে জানান, "আমি মনে করি, এ বছর আমি এমন কিছু করেছি যা আমাকে আলাদা করেছে। তাই আমি বিশ্বাস করি, আমি এটি জিততে পারি।" নিজেকে যোগ্য দাবিদার মনে করেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমার চেয়ে ভালো কোনো খেলোয়াড় ছিল না।"
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের করে নেওয়াকে বিশেষ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে এমবাপ্পে বলেন, "লিওনেল মেসির মতো একজন কিংবদন্তির কাছ থেকে রেকর্ড নেওয়াটা আরও বড় ব্যাপার।"
এদিকে, ফ্রান্স জাতীয় দলের নতুন কোচ জিনেদিন জিদানের প্রশংসা করেছেন এমবাপ্পে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী এই কিংবদন্তি দিদিয়ের দেশমের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। এমবাপ্পে বলেন, "ফরাসিদের কাছে তিনি অনেক কিছু। তিনি একজন কিংবদন্তি, দেশের ‘জিজু’। তিনি আভিজাত্য ও মহত্ত্বের প্রতীক।"
তিনি আরও বলেন, "ফ্রান্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেন এমন খেলোয়াড়দের মধ্যে জিদান অন্যতম। তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ছাড়িয়ে গেছেন এবং ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে অমোচনীয় ছাপ রেখে গেছেন।"