বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
স্পেনে ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৩০, রেলপথের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ স্পেনে ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ৪৬, উদ্ধার কার্যক্রম চলছে ঘূর্ণিঝড় আরনাবের প্রভাবে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডব, সতর্কতা জারি সুদানের ন্যালে ড্রোন হামলায় ২১ নিহত, ৪০ আহত ঘূর্ণিঝড় অর্ণব: অতি প্রবল অবস্থায় পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে লরি চাপায় নিহত ৫, আহত ৪ সাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে ফ্রান্সে জাতিগত হামলায় নিহত ১, আহত ৫, মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা বাড়ছে জর্ডানে গির্জায় সন্ত্রাসী হামলায় ৭ জন নিহত, ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক
আন্তর্জাতিক

বঙ্গোপসাগরে জ্বালানি নিয়ে তিন পরাশক্তির টানাটানি, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কি অনিশ্চিত?

বঙ্গোপসাগরে জ্বালানি নিয়ে তিন পরাশক্তির টানাটানি বাংলাদেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

বঙ্গোপসাগরে জ্বালানি নিয়ে তিন পরাশক্তির টানাটানি, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কি অনিশ্চিত?

বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী দ্বীপাঞ্চলে জ্বালানি বাজার দখল নিতে তৎপর হয়েছে তিনটি বিশ্বশক্তি: আমেরিকা, রাশিয়া ও চীন। দেশীয় গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে বাংলাদেশ প্রতি মাসে ১০ কার্গো এলএনজি আমদানি করছে, যা দেশের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।

রাশিয়ার মালিকানাধীন নোভাটেক মিডলইস্ট ডিএমসিসি সম্প্রতি পেট্রোবাংলার কাছে ৯৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এই প্রস্তাবে মহেশখালীতে একটি স্থায়ী গ্র্যাভিটি-বেইজড স্ট্রাকচার (জিবিএস) টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ৬০ থেকে ৮০ বছর স্থায়ী হবে এবং এক মাসের গ্যাস সংরক্ষণ করতে সক্ষম হবে।

নোভাটেকের প্রস্তাবে দুটি অপশন রয়েছে: প্রথমটি আমদানি করা এলএনজিকে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে পাঠানো, এবং দ্বিতীয়টি ছোট জাহাজের মাধ্যমে সরাসরি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় পৌঁছানো। তবে, মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি বর্তমানে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা রাশিয়ার এই প্রস্তাবের জন্য একটি বড় বাধা।

চীনও এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই; তারা সিএনইই কোম্পানির মাধ্যমে মহেশখালীতে একটি নতুন ভাসমান টার্মিনাল তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। ফলে, মহেশখালীতে তিন পরাশক্তির উপস্থিতি বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।

নোভাটেকের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে একটি উদ্বেগজনক দিক হলো, তাদের জিবিএস টার্মিনাল তৈরির কোনো অভিজ্ঞতা নেই। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, তবে তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, চুক্তি এখনও হয়নি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেছেন, প্রস্তাব গ্রহণের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, বিদেশি কোম্পানির হাতে স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় খরচে এটি নির্মাণ করা উচিত।

অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, সরকারের কূটনৈতিক দক্ষতা এই সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংকটের সময়ে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে নিয়মিত জ্বালানি তেল কিনেছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে।

বিজ্ঞাপন