বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
শিক্ষা

দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেলেন ইয়াসমিন আক্তার

দক্ষিণ কোরিয়ার সাংকংহে ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেলেন ইয়াসমিন আক্তার অধরা।

দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেলেন ইয়াসমিন আক্তার

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে মানবপাচারের জটিলতা নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার সাংকংহে ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইয়াসমিন আক্তার অধরা।

গত ১৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স বিল্ডিংয়ের জন ডেলি হলে ২০২৫ সালের শরৎকালীন সেমিস্টারের ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে মোট ২৫৪ জন শিক্ষার্থী ডিগ্রি লাভ করেন, যার মধ্যে ১৮৮ জন স্নাতক এবং ৬৬ জন স্নাতকোত্তর ও ডকটরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

ইয়াসমিন আক্তার অধরা একমাত্র গ্র্যাজুয়েট স্কুলের শিক্ষার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। তাঁর থিসিসের শিরোনাম “Internal Colonies of Aid and Mobility: Human Trafficking within the Rohingya Refugee–Host Community Landscape of Cox’s Bazar”।

গবেষণায় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের প্রেক্ষাপটে মানবিক সহায়তা, বাস্তুচ্যুতি, মানুষের চলাচল, জীবিকা ও নিরাপত্তার সঙ্গে মানবপাচারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিশেষ করে, শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং মানুষের চলাচলের ওপর থাকা বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা কীভাবে মানবপাচারের ঝুঁকি তৈরি করে, তা গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ দিক।

এই অর্জন প্রসঙ্গে ইয়াসমিন আক্তার অধরা বলেন, “এই স্বীকৃতি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। এটি আমার কাছে একটি বড় দায়িত্বেরও বিষয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু একটি শরণার্থী সংকট হিসেবে না দেখে এর সঙ্গে জড়িত মানবপাচার, মানুষের চলাচল, জীবিকা ও সামাজিক বাস্তবতার জটিলতাগুলোকে বোঝার চেষ্টা করাই ছিল আমার মূল উদ্দেশ্য।”

সাংকংহে ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট কিম কিয়ং-মুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্যে বলেন, “দয়ালু কিন্তু অজ্ঞ নন” এবং “যোগ্য কিন্তু অহংকারী নন” হতে। তিনি শিক্ষার্থীদের অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার জন্যও আহ্বান জানান।

ইয়াসমিনের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের গবেষণা ও মানবাধিকারভিত্তিক কাজের ক্ষেত্রেও একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

বিজ্ঞাপন