মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী পরমাণুচালিত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন অবশেষে ৯ মাস সমুদ্রে কাটানোর পর দেশে ফিরছে। এই দীর্ঘ অভিযানের শেষদিকে নাবিকদের মধ্যে মানসিক চাপ, খাবার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি এবং পানীয় জলের সমস্যার খবর সামনে এসেছে।
গত বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে এই রণতরির অভিযান শুরু হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে অভিযান শেষ করার। কিন্তু ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হলে, রণতরিটির সমুদ্রে থাকার সময় বারবার বাড়ানো হয়। ফলে এটি টানা ৯ মাস সমুদ্রে কাটাতে বাধ্য হয়।
এই অভিযানের সময় নাবিকদের মধ্যে ক্লান্তি এবং মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, নাবিকদের মধ্যে মনোবল কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে এমনও দাবি করা হয়েছে যে, কয়েকজন নাবিক সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
মার্কিন নৌবাহিনী জানায়, জাহাজে অল্পসংখ্যক মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছিল এবং সেগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের কারণে রণতরির যুদ্ধক্ষমতা এবং নাবিকদের মনোবলের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধের সময় একটি রণতরি যত বেশি সময় সমুদ্রে থাকে, তার জন্য প্রয়োজন হয় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি, খাবার, যন্ত্রাংশ এবং বিশ্রামের সুযোগ। এইসবের ওপর দীর্ঘদিনের চাপ তৈরি হলে, তা পুরো যুদ্ধক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান যুদ্ধের ময়দানে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ছিল শক্তির প্রতীক। কিন্তু ৯ মাস পর যখন এটি দেশে ফিরছে, তখন এটি নিয়ে এসেছে দীর্ঘ অভিযানের ক্লান্তি এবং নাবিকদের চাপের খবর। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মার্কিন নৌবাহিনীর আরও কত রণতরিকে একইভাবে বিশ্রাম নিতে হবে?