ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে এক শিক্ষার্থীর ওপর ছররা (পেলেট) গুলি ছোড়ার অভিযোগে এফআইআর করেছে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সংসদ ভবনসংলগ্ন পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় অবস্থানের পর এই মামলা নেওয়া হয়।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী সাহিল লোচাভের দাবি, ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভের সময় তিনি পেলেট গুলির আঘাতে আহত হন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, পুলিশকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরেও মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছিল।
রাহুল গান্ধী সাহিলকে সঙ্গে নিয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গেলে তিনি দাবি করেন যে, ঘটনাটি আমলযোগ্য অপরাধ হওয়ায় অবিলম্বে এফআইআর নথিভুক্ত করতে হবে।
ছয় ঘণ্টার অবস্থানের পর সাহিল লোচাভের অভিযোগের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করে। এফআইআর হওয়ার পর রাহুল গান্ধী ও সাহিল গণমাধ্যমের সামনে এর কপি প্রদর্শন করেন। এরপর তারা অবস্থান কর্মসূচি শেষ করেন।
এদিকে, দিল্লি পুলিশ অভিযোগ ও মামলা দায়েরের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে পুলিশ কর্তৃক পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে ভারতে বিতর্ক চলছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনের অনুযায়ী, পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার ডেইলি ডায়েরির তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (র্যাফ) সদস্যরা অ্যান্টি-রায়ট গান থেকে দুটি রাউন্ড এবং দুটি রাউন্ড প্লাস্টিক পেলেট ব্যবহার করেছিলেন।
শিক্ষার্থীদের ওপর পেলেট ব্যবহারের অভিযোগ ও পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আর সুভাষ রেড্ডির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
উক্ত কমিটি বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পেলেট গান, বৈদ্যুতিক ব্যাটন, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগসহ পুলিশের ভূমিকা পর্যালোচনা করবে।