শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ, উত্তর কোরিয়ার শর্ত

ট্রাম্প কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করতে চান, তবে উত্তর কোরিয়া কঠোর শর্ত আরোপের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।

ট্রাম্পের কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ, উত্তর কোরিয়ার শর্ত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করতে চান। তবে পিয়ংইয়ং এই প্রস্তাবে সাড়া দিতে নারাজ। দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ‘চমৎকার’ হলেও বৈঠকের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি এসব মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘বৈরী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর দুই দিন পর তিনি কিমের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনার কথা জানান।

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্প আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে আগ্রহী। চলতি বছরের শেষ দিকে চীনের শেনঝেনে এপিইসি সম্মেলনে অংশগ্রহণের সময় দুই নেতার বৈঠকের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, তারা কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে পিয়ংইয়ংয়ের অবস্থান বলছে, বৈঠকটি সহজে হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্তকে ‘সদিচ্ছার নিদর্শন’ হিসেবে দেখা উচিত নয়।

এরই মধ্যে, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়া পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সামরিক মহড়ার প্রতিবাদ হিসেবে এই উৎক্ষেপণ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, কিমের সঙ্গে বৈঠক করতে হলে উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় পরিবর্তন, পিয়ংইয়ংয়ের কাছে বৈরী বিষয়গুলো প্রত্যাহার এবং দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রের মর্যাদা মেনে নেওয়ার শর্ত দিতে পারে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, তারা উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্য থেকে সরে যায়নি।

২০১৮ ও ২০১৯ সালে ট্রাম্প কিমের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন, তবে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের বিষয়ে মতবিরোধের কারণে সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ায় কিমের দ্রুত আলোচনায় ফেরার আগ্রহ কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিজ্ঞাপন