মৌলভীবাজারের কাউয়াদিঘি হাওরে জলাবদ্ধতার কারণে চলতি মৌসুমের আমন আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চারা রোপণের সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে রয়েছে। কৃষকরা দ্রুত পানি না কমলে বড় ক্ষতির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
কাশিমপুর পাম্প হাউজের কার্যকারিতা নিয়ে কৃষকদের অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রয়োজন অনুযায়ী পানি নিষ্কাশন করতে পারছে না। বর্ষাকালে হাওরের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বালিগাঁও, দুগাঁও ও মিয়ারকান্দি এলাকার হাজারো হেক্টর কৃষিজমি প্রায় দুই ফুট পানির নিচে রয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মনু সেচ প্রকল্পের আওতায় যদি প্রায় সাড়ে ২২ হাজার হেক্টর জমির পানি কমানো যায়, তবে সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ সম্ভব হবে। তবে কৃষি, মৎস্য ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে দায় চাপানোর কারণে সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি হচ্ছে না বলে অভিযোগ জানিয়েছেন হাওর রক্ষা আন্দোলনের নেতারা।
হাওর রক্ষা আন্দোলনের সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম ফয়সাল বলেন, “আমরা বিভিন্ন সময় দাবি করেছি যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কৃষক ও মৎস্যজীবিদের নিয়ে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করুক। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বিভাগগুলো একে অপরকে দোষারোপ করছে।”
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালীদ বলেন, “পানি নিষ্কাশনে পাম্প হাউজের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো প্রয়োজন।” ১৯৮২ সালে কুয়েত সরকারের যৌথ অর্থায়নে মনু সেচ প্রকল্প চালু হয়েছিল। ২০১৮ সালে পাম্প হাউজে নতুন ৮টি পাম্প পুনঃস্থাপন করা হয়, যার ব্যয় ছিল প্রায় ৮২ কোটি টাকা।