ফেরারির ইতিহাসে প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুস’ চ্যারিটি অকশনে রেকর্ড ৪০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় আরএম সোথেবিজের আয়োজিত এই নিলামে গাড়িটি বিক্রি হয়, যা নতুন কোনো গাড়ির নিলামে সর্বোচ্চ দাম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
নিলাম থেকে প্রাপ্ত পুরো অর্থ ফেরারি ফাউন্ডেশনের শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে বলে সোথেবিজ জানিয়েছে। লুস গাড়িটি ব্রিটিশ ডিজাইনার স্যার জনি আইভের পরিকল্পনায় তৈরি করা হয়েছে এবং এর দাম সাধারণ মূল্যের তুলনায় ৩৫ গুণেরও বেশি উঠেছে।
গাড়িটির ক্রেতার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, তবে সোথেবিজের ভাষায়, এটি ছিল লুসের প্রথম উৎপাদিত মডেলটি মালিকানায় নেওয়ার ‘অসাধারণ সুযোগ’। গাড়িটির বিশেষ ধরনের ফিনিশ, নিজস্ব নকশার যন্ত্রাংশ ও কাস্টমাইজড ব্রেক রয়েছে।
লুসের নকশা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। গত মে মাসে উন্মোচনের পর থেকেই ফেরারি সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি ও ফেরারির সাবেক চেয়ারম্যান লুকা কর্দেরো দি মন্তেজেমোলো মন্তব্য করেছেন যে, গাড়িটির নকশা ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ডিজাইন থেকে অনেকটাই সরে গেছে।
ফেরারির প্রধান ডিজাইনার ফ্লাভিও মানজোনি সমালোচনাকে উদ্ভাবনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “সময়ের সঙ্গে মানুষ লুসকে পছন্দ করতে শুরু করবে।”
লুসের মাধ্যমে ফেরারি প্রথমবারের মতো বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে প্রবেশ করেছে, যেখানে বর্তমানে মার্কিন প্রতিষ্ঠান টেসলা ও চীনের গাড়ি নির্মাতাদের আধিপত্য রয়েছে।
ফেরারি এখনো লুসের বিক্রির নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা প্রকাশ করেনি, তবে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনে জোরালো চাহিদার কারণে চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা ইতোমধ্যে পূরণ করেছে গাড়িটি।
ফেরারির গাড়ির নিলামমূল্য বরাবরই বেশিরভাগ সময় উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। ২০২৫ সালে একটি বিশেষভাবে তৈরি ফেরারি ডেটোনা এসপি-৩ নিলামে ২ কোটি ৬০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়। তবে, সব ধরনের গাড়ির মধ্যে নিলামে সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড ১৯৫৫ সালের বিরল মার্সিডিজ-বেঞ্জ ৩০০ এসএলআর-এর দখলে রয়েছে, যা ২০২২ সালে ১৪ কোটি ২০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল।