ভারতের শীর্ষ কর্মকর্তারা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, ঢাকার আবেদনটি দেশটির বিচারব্যবস্থার সামনে আসতে হবে এবং আদালতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের করা আবেদন নিয়ে নিবিড় আলোচনা চলছে। এক জ্যেষ্ঠ ভারতীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত আমাদের আদালতই নেবে। এটি রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে না।’
অন্য এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা নিজেই আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তাই শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধটি দিল্লি ও ঢাকার মধ্যকার বর্তমান কূটনৈতিক যোগাযোগের সাথে সম্পর্কিত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব আইনি নথি সংযুক্ত করে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন এবং তারপর থেকে তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছেন।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। এই রায়কে ভিত্তি করে তাঁকে প্রত্যর্পণের জন্য চাপ দিচ্ছে ঢাকা। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, ভারতীয় আদালতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হলে আইসিটির রায়কে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকবে।
ভারত ও বাংলাদেশ ২০১৩ সালে একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি সই করে, যার অধীনে আদালত কর্তৃক ঘোষিত শাস্তি কার্যকর করার জন্য পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।