সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
তথ্যপ্রযুক্তি

এআই দ্বারা তৈরি কৃত্রিম ভাইরাস: আশার পাশাপাশি ঝুঁকি

এআই দ্বারা তৈরি কৃত্রিম ভাইরাসের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ প্রকাশ।

এআই দ্বারা তৈরি কৃত্রিম ভাইরাস: আশার পাশাপাশি ঝুঁকি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা নতুন বৈশিষ্ট্যের ভাইরাল জেনোম তৈরি করেছেন, যা নির্দিষ্ট পোষকদেহে আক্রমণ করতে সক্ষম। এই গবেষণাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, তবে এর সম্ভাব্য জৈব নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘সাইন্স’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইভো নামের এআইকে প্রশিক্ষণ দিতে অগণিত উৎস থেকে সংগৃহীত জেনেটিক সিকোয়েন্স ব্যবহার করা হয়েছে। এই এআই টুল ভাষাভিত্তিক মডেলগুলোর মতোই বিপুল ডেটাসেটের ওপর ভিত্তি করে শেখে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আর্ক ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা এই এআই ব্যবহার করে হাজার হাজার জেনোম কম্বিনেশন তৈরি করেন। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় ৩০০টি জেনোম থেকে ১৬টি সক্রিয় ব্যাকটেরিওফেজ ভাইরাস সনাক্ত করা হয়েছে, যা মানবদেহে ক্ষতি না করে কেবল ক্ষতিকারক ‘ই কোলাই’ ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই নতুন কৃত্রিম ভাইরাসগুলো অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল রেজিস্ট্যান্স ই কোলাই ধ্বংস করতে সক্ষম, যা প্রাকৃতিক ভাইরাস পারছিল না। এটি দ্রুত রূপ পরিবর্তনকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে সহনশীল ও কার্যকর ফেজ থেরাপি তৈরির নতুন পথ উন্মোচন করেছে।

তবে, জনস হপকিন্স সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির বিশেষজ্ঞরা সায়েন্স সাময়িকীতে সতর্ক করে বলেছেন, জেনারেটিভ এআই দিয়ে ভাইরাসের জিনোম বানানোর প্রযুক্তি এখন বাস্তবতা; কিন্তু এটি নিরাপদে পরিচালনা করার মতো কোনো নীতিমালা বা আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ইউক্যারিওট বা মানবদেহে সংক্রমণ ঘটায় এমন জটিল জীবাণু নিয়ে। এআই ব্যবহার করে নতুন রূপ তৈরি হলে তা বিদ্যমান চিকিৎসা বা প্রতিরোধ ব্যবস্থার বাইরে চলে যেতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা আশ্বাস দিয়েছেন যে, ল্যাবে পরীক্ষা ও কম দক্ষতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত মহামারি ছড়ানোর মতো বিপজ্জনক ভাইরাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হওয়া আপাতত বেশ কঠিন।

বিজ্ঞাপন