ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে অভ্যস্ত, এবার এমন এক প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছেন যার প্রতিটি চালের পাল্টা চাল প্রস্তুত। গত কয়েকদিনে ইরান হুমকি ও আলোচনার মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, খুব শিগগিরই ইরানের সঙ্গে নতুন আলোচনা শুরু হবে, কিন্তু তেহরান তা নাকচ করে দিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। তিনি জানান, ইরান ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছে, যা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের নতুন ব্যবস্থাপনা নিয়ে।
এদিকে, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের নেতৃত্বকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষোভ প্রকাশের পরও বাস্তবতা হলো, হরমুজ প্রণালীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থাই তেহরানের জন্য শক্তিশালী দর-কষাকষির অস্ত্র।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার সম্ভাবনা থাকলেও, প্রশ্ন হলো, সেই হামলা কি ইরানের নীতি বদলাতে সক্ষম হবে? অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, দীর্ঘ সময়ের সংঘাতের পরও ওয়াশিংটন তেহরানকে নিজেদের শর্তে আনতে পারেনি।
এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের যুদ্ধের চূড়ান্ত লক্ষ্য সম্পর্কে অস্পষ্টতা নিয়ে উদ্বিগ্ন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময়ে, জ্বালানির দাম ও যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে ট্রাম্পের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।
বর্তমানে ইরানের লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপ বাড়ানো। এই পরিস্থিতিতে, ট্রাম্পের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।