মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির শারীরিক অবস্থার বিষয়ে দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা কাটল। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) এক প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি, যা দেশটির জান্তা সরকার নিশ্চিত করেছে।
৮১ বছর বয়সী সু চিকে প্রকাশিত ছবিতে সুস্থ ও স্বাভাবিক দেখা গেছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি বন্দি রয়েছেন। প্রথমে ৩৩ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পর, ধাপে ধাপে তার সাজা কমিয়ে ১৮ বছর করা হয় এবং বর্তমানে তিনি গৃহবন্দী অবস্থায় রয়েছেন।
সামরিক সরকার সু চির জীবিত থাকার দাবি করলেও, তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণ দেয়নি, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সোমবার, রাজধানী নেপিদোতে আইসিআরসির মিয়ানমার প্রতিনিধি সু চির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সু চির ছেলে কিম অ্যারিস জানান, সাক্ষাৎটি তার মায়ের জীবিত থাকার প্রথম নিরপেক্ষ প্রমাণ। তিনি বলেন, ‘আইসিআরসির প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমার মায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না।’
কিম অ্যারিস আশা প্রকাশ করেন যে, আইসিআরসির মাধ্যমে ভবিষ্যতে তার মায়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। তিনি আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি সু চির মুক্তির দাবিতে চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা গৃহযুদ্ধ বন্ধ, বিরোধী এলাকায় বিমান হামলা বন্ধ এবং সু চির মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে।
সু চির এই সাক্ষাৎ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এর ফলে তার মুক্তিতে কোনো অগ্রগতি হয় কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।