ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জন্য পরিস্থিতি এখন কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
ইএসপিএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত ইনফান্তিনোর জন্য অনাস্থা ভোটের মুখে পড়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। আগামী মার্চের নির্বাচনে তিনি হারতে পারেন অথবা নিজেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেন।
ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটি ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল। এই প্রতিষ্ঠানের মূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের জোশুয়া কুশনারের প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ক্যাপিটালও বিনিয়োগকারী হিসেবে নাম উল্লেখ করেছে।
ফিফার সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ইউরোপের উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি), এবং কনক্যাকাফের ১৪৩টি সদস্য দেশ এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। ইনফান্তিনোর প্রস্তাব পাস করতে প্রয়োজন ছিল ১০৬ ভোট, কিন্তু বিরোধিতার ফলে সমর্থন ৬৮-এ নেমে আসে।
উয়েফা পরিকল্পনা বাতিল না হলে ৫৫টি দেশ ফিফার প্রতিযোগিতা বর্জনের হুমকি দেয়। এর ফলে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক আকর্ষণ কমে যেতে পারে।
বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন, ফিফার বাইরের বিনিয়োগকারীর প্রয়োজন ছিল কি না, কারণ ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে তাদের হাতে প্রায় ২৭০ কোটি ডলার নগদ অর্থ ছিল।
এছাড়া, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে ফিফার আয় ও সদস্য দেশগুলোর অর্থ সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করেছে।
ফিফার দুই শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন, যার মধ্যে সাবেক যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল প্রধান কার্লোস কর্দেইরোও রয়েছেন।
এখন ইনফান্তিনোকে সরাতে হলে ৪৩টি সদস্য দেশের সমর্থন প্রয়োজন হবে। তবে তার শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তাকে সরানো কঠিন করে তুলতে পারে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা কতটুকু রক্ষা হবে এবং বিশ্বকাপ বিক্রির বিতর্ক তার ক্ষমতার শেষ অধ্যায়ের সূচনা করবে কিনা।