জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের ডাক দেয় ছাত্র-জনতা, যা ‘শ্রাবণ বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত। এই আন্দোলন কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হলেও তা এক রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। তবে, এই ঐতিহাসিক পটভূমি এক দিনে তৈরি হয়নি। ২০১১ সালে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা’ বাতিল হওয়ার পর থেকেই বিএনপি সাধারণ মানুষকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে নির্বাসিত থেকেও জনগণ ও নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনা দেন। তিনি তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে নিয়মিত ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আন্দোলনের পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের হত্যার পর বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন ও মিছিলের আয়োজন করা হয়। ছাত্রদল আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা জানাতে এই কর্মসূচি পালন করে।
তারেক রহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনার হাতে কেউ নিরাপদ নয়।’ তিনি দাবি করেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও নিরাপদ নয়। ১৯ জুলাই দেশে শিক্ষার্থী হত্যার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতা রাজপথে নামেন।
২১ জুলাই ও ১ আগস্ট তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং সারা দেশে দমন-পীড়নের চিত্র তুলে ধরেন। এই আন্দোলনে ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারান এবং অসংখ্য নেতাকর্মী গুম ও নিগ্রহের শিকার হন।
বেগম খালেদা জিয়া, যিনি দীর্ঘ গৃহবন্দিত্ব ও শারীরিক অসুস্থতার মধ্যে ছিলেন, এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করে এবং জনগণের ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠে।