যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আসা দাবানলের ধোঁয়ার কারণে দেশটির ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কানাডা অপ্রয়োজনীয়ভাবে নোংরা এবং অস্বাস্থ্যকর বাতাস দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রান্ত করছে।
ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত পোস্টে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করেন এবং কানাডার বনভূমি ও ঝোপঝাড় সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করার জন্য দেশটির ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’কে দায়ী করেন।
কানাডার ওয়াইল্ডল্যান্ড ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত কানাডায় ৮৮৮টি দাবানল সক্রিয় ছিল, যার মধ্যে ১৯০টির বেশি আগুন অন্টারিওতে জ্বলছে। দাবানলের ধোঁয়া মিনেসোটা, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া, ওহাইও এবং নিউইয়র্কসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
সুইস বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘আইকিউএয়ার’ জানায়, শুক্রবার ডেট্রয়েটের বায়ুর মান বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ছিল, এরপর শিকাগো ও ওয়াশিংটন ডিসি। নিউইয়র্ক সপ্তম অবস্থানে রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, দাবানলের ধোঁয়ার পরিস্থিতি জটিল। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. প্যাট্রিক জেমস জানান, আবহাওয়া আন্তর্জাতিক সীমান্ত মানে না এবং বাতাসের গতির কারণে ধোঁয়া এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
কানাডার কর্মকর্তারা ট্রাম্পের অভিযোগের জবাবে জানান, দেশটি দাবানল মোকাবিলায় কাজ করছে এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী এলিনর ওলসজেউস্কি বলেন, দুই দেশ দুর্যোগ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করছে।
অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড জানান, কানাডা অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের দাবানল মোকাবিলায় সহযোগিতা করেছে এবং তার সরকার ২০১৮ সাল থেকে দাবানল নিয়ন্ত্রণে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কানাডায় দাবানলের তীব্রতা বাড়ার পেছনে তীব্র গরম, কম বৃষ্টিপাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রয়েছে। দাবানলের কারণে উত্তর অন্টারিওর অনেক বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নামায়গুসিসাগাগুন ফার্স্ট নেশনস-এর প্রধান হেলেন পাভোলা জানান, তাদের এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধোঁয়ার কারণে নিউইয়র্কের স্ট্যাচু অব লিবার্টি ও এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংও আড়ালে ঢেকে যায়।