দীর্ঘ ২৪ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। বুধবার দিবাগত রাত ১টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে।
এই ম্যাচকে অনেকেই ফাইনালের আগে 'আসল ফাইনাল' হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ৬০ বছরের খরা কাটিয়ে ট্রফি জয়ের স্বপ্নে বিভোর, অন্যদিকে লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটে শেষ পালক যোগ করার মিশনে রয়েছেন।
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার ম্যাচ শুধুমাত্র ফুটবল নয়, বরং মাঠের বাইরের আবেগ ও ভূ-রাজনীতির জটিল মিশ্রণ। ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত যুদ্ধ দুই দেশের সম্পর্ককে তিক্ত করে তোলে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো মারাদোনার 'হ্যান্ড অব গড' গোল এবং ১৯৯৮ বিশ্বকাপে বেকহ্যামের লাল কার্ড এই দ্বৈরথকে এক অনন্য নাট্যরূপ দিয়েছে।
ম্যাচটি মেসির জন্য বিশেষ, কারণ এটি তার প্রথম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা। এবারের বিশ্বকাপে মেসি ইতোমধ্যে ৮ গোল করেছেন এবং গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সাথে শীর্ষে রয়েছেন।
আর্জেন্টিনার লক্ষ্য ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ ধরে রাখা। তবে নকআউট পর্বে তাদের পথ মসৃণ ছিল না। মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর শেষ মুহূর্তে ৩ গোল করে জয় লাভ করে তারা।
ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগ মূলত হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের ওপর নির্ভরশীল। চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ১৩টি গোলের ১২টি এই দুজনের দ্বারা হয়েছে।
আর্জেন্টিনার শক্তি তাদের আক্রমণভাগ, তবে নকআউট পর্বে ধারাবাহিকতার অভাব তাদের দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের এলোমেলো পারফরম্যান্সও তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ।
ম্যাচের জন্য আর্জেন্টিনার স্পটলাইটে থাকবেন মেসি, রদ্রিগো, এনসো ও হুলিয়ান আলভারেজ। ইংল্যান্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে কেইন ও বেলিংহাম।