কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষার তিনটি কেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অনুপস্থিত থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে 'ধার করা' কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের পরীক্ষার দিন এ ঘটনা ঘটে।
নাগেশ্বরী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন, যিনি ছুটিতে ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন এবং পরীক্ষার শুরুতে জামাল হোসেনকে ফোন করে ডেকে পাঠান। জামাল হোসেন, যিনি কচাকাটা ডিগ্রি কলেজের ট্যাগ কর্মকর্তা ছিলেন, পরবর্তীতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
জামাল হোসেন জানান, তিনি অফিসে প্রতিবন্ধী জরিপে ছুটিতে ছিলেন। তবে, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুরোধে নাগেশ্বরী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে আসেন। একইভাবে, কচাকাটা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজ সেবা কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় সেখানে হারুন অর রশিদ ও রফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা বেশি হলেও পর্যাপ্ত কর্মকর্তার অভাব রয়েছে। তাই তিনি নিজ উদ্যোগে সহকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। এ বিষয়ে ইউএনওর নির্দেশনা ছিল না বলে তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খোদাদাদ হোসেন বলেন, ট্যাগ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছিল এবং কেউ দায়িত্বে না গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুঠোফোনে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগের দায়িত্ব ইউএনওর। স্থানীয়দের মতে, এভাবে মুঠোফোনে ট্যাগ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া প্রশাসনিক উদাসীনতার উদাহরণ। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলায় ৫০টি কেন্দ্রে মোট ১৯,১৮০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।