মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

চট্টগ্রামে বন্যার পর দুর্ভোগ অব্যাহত, পানিবাহিত রোগের শঙ্কা

চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে বন্যার পর দুর্ভোগ অব্যাহত, পানিবাহিত রোগের শঙ্কা।

চট্টগ্রামে বন্যার পর দুর্ভোগ অব্যাহত, পানিবাহিত রোগের শঙ্কা

চট্টগ্রাম ও পার্বত্য তিন জেলায় বন্যার পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি বন্যা দুর্গতদের। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং সড়কে পানি থাকায় যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি।

চট্টগ্রাম নগরীর নিচু এলাকা থেকে বৃষ্টির পানি নামলেও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও চন্দনাইশের অন্তত ৬০ ভাগ বাসিন্দা জলাবদ্ধতার কবলে রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরলেও ভোগান্তি কমেনি। পানিবাহিত ও চর্মরোগ সংক্রমণের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, দুর্গত এলাকায় পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, খাওয়ার স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “সাপের উপদ্রব মোকাবিলায় পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম রয়েছে।”

কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি নামলেও অন্তত ২০ গ্রামের বাসিন্দা এখনো পানিবন্দি। মাছের ঘেরের জন্য বাঁধ দেওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

বান্দরবান সদরের আর্মিপাড়া, মেম্বারপাড়া, কাশেমপাড়া, ইসলামপুর, হাফেজঘোনা, ক্যচিংঘাটা ও বালাঘাটা এলাকার বাসিন্দারা টানা ৬ দিন পর আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে সদরের সঙ্গে রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

মাইনী ও চেঙ্গী নদীর পানি কমতে থাকায় খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা ও মহালছড়িতে বন্যার ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় এক হাজার ৩১ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলা থেকে বন্যার পানি নামছে, তবে পাহাড় ধসের ঝুঁকির কারণে প্রায় ১ হাজার মানুষ এখনো আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়তে পারছেন না।

কুমিল্লা নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় হাঁটু সমান ও কোমর সমান পানি জমে রয়েছে। দুর্যোগে সবচেয়ে বিপাকে রয়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা, যাদের কাঁদা পানি পেরিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন