প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি জাতির অগ্রগতি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে না; বরং তা নির্ভর করে সুস্থ, দক্ষ ও মানবিক জনগণের ওপর। তিনি বলেন, মানসম্মত চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার ভূমিকা অপরিসীম।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) আট দশক ধরে দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিকাশে অনন্য অবদান রেখে চলেছে, যা জাতীয় গর্বের বিষয়। সরকার স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে— যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮০ বছর পূর্তি ও ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রাক্তন, বর্তমান ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঢামেক দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে গড়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দীর্ঘ পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি অসংখ্য দক্ষ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক চিকিৎসক তৈরি করেছে, যারা দেশে ও বিদেশে পেশাগত উৎকর্ষ, নেতৃত্ব এবং সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের মর্যাদা সমুন্নত রেখেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানসহ জাতীয় সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।
বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্র দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানচর্চা এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি স্বাস্থ্যখাতকে নতুন সম্ভাবনার দিকে নিয়ে যাচ্ছে— জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, ঢামেক আগামী দিনেও বিশ্বমানের চিকিৎসক, গবেষক ও স্বাস্থ্যনেতৃত্ব গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এবং স্বাস্থ্য গবেষণায় নিয়োজিত চিকিৎসকরা দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
৮০ বছরের গৌরবময় অভিজ্ঞতা এবং ৮১তম প্রতিষ্ঠাদিবসের প্রেরণাকে ধারণ করে ঢামেক ভবিষ্যতেও জ্ঞান, মানবিকতা, গবেষণা ও সেবার ক্ষেত্রে উৎকর্ষের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।