দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের পর বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে তৃতীয় বৃহত্তম গন্তব্য এখন বাংলাদেশ। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি পেলেও বাংলাদেশ এখনো আফ্রিকার কিছু দেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের এফডিআই ৪৫ শতাংশ বেড়ে ১৭৮ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ১২৩ কোটি ডলার।
গত এক দশকে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে নেতিবাচক প্রবণতার কারণে দেশে বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দেয়। তবে আর্থিক খাতের সংস্কারসহ বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে বিনিয়োগ কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও তা প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
আঙ্কটাডের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের এফডিআই উগান্ডা ও ঘানার তুলনায় কম। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ১৭৮ কোটি ডলারের বিপরীতে উগান্ডায় এসেছে ৩৪০ কোটি ডলার এবং ঘানায় ১৯০ কোটি ডলার বিনিয়োগ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ, পশ্চিম ও মধ্য এশিয়ায় বিনিয়োগ বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ২০২৫ সালে মোট এফডিআই প্রবাহ ৪ হাজার ৬১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ২৭৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। সিঙ্গাপুর ১৫১ বিলিয়ন ডলার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে হংকং এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে চীন, যার বিনিয়োগ ১০৫ বিলিয়ন ডলার।
আঙ্কটাড জানায়, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী এফডিআই ৬ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আঞ্চলিক সংঘাত এবং অর্থনৈতিক বিভাজনের কারণে চলতি বছরেও বৈশ্বিক বিনিয়োগে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।