টানা বর্ষণের ফলে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিন জেলায় পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে বসবাসরত কয়েক হাজার পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রশাসন তাদের সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করছে এবং আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বান্দরবান জেলা প্রশাসন ১০ জুলাই পর্যন্ত সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে। এদিকে, বান্দরবানের পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে। স্থানীয়রা জানান, জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এক গৃহবধূ বলেন, ‘পাহাড় ধস দেখেছি। আর একটু হলে আমার গায়ে পড়ত।’ অন্য এক বাসিন্দা জানান, ‘বৃষ্টির দিনেও থাকতে হয়, পাহাড় ধসের সময়ও থাকতে হয়। আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ যাবো কোথায়?’
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আরও দু-এক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। প্রশাসন ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বান্দরবান পৌরসভার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস.এম. মনজুরুল হক বলেন, ‘পাহাড়ের পাদদেশে যারা বসবাস করছেন তাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।’
খাগড়াছড়িতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবার পাহাড়ধসের শঙ্কায় রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন তাদের নিরাপদ স্থানে যেতে আহ্বান জানিয়েছে। খাগড়াছড়ির এক বাসিন্দা বলেন, ‘সরকার নিয়মিত মাইকিং করে, কিন্তু আমরা জীবনের তাগিদে বসবাস করছি।’
রাঙামাটির ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রশাসন মাইকিং করেছে এবং ৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাঙামাটি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার মো. আসলাম সারোয়ার বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের জীবন রক্ষায় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য প্রচারণা করি।’