দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে গরমের মধ্যে ভোগান্তি বেড়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, দিনের অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ থাকে না।
এইচএসসি পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে লেখাপড়া, চাষাবাদ ও ব্যবসায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও কর্মীদের মারধরের মতো ঘটনাও ঘটেছে। নারায়ণগঞ্জের পাঁচ উপজেলার মধ্যে বন্দর, সোনারগাঁ, আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
গত কয়েকদিন ধরে ক্রমাগত লোডশেডিংয়ের কারণে এসব এলাকার বাসিন্দাদের ভোগান্তি বেড়েছে এবং শিল্প কারখানার উৎপাদনও কমেছে। জামালপুরে পিডিবির আওতাভুক্ত এলাকায় লোডশেডিং কিছুটা সহনীয় হলেও পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন।
নেত্রকোণার গ্রামগুলোতে দিনের অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ মিলছে না। নেত্রকোণা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. আকরাম হোসেন জানান, সরবরাহ কম থাকায় এক সপ্তাহ ধরে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে।
ময়মনসিংহের লোডশেডিংয়ের কারণে মৎস্য ও পোল্ট্রি খামারে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। যশোরের গ্রামাঞ্চলেও সেচ মৌসুমের পর লোডশেডিং বেড়েছে। মেহেরপুরে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ নেই।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভুতুড়ে বিল নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। সাব-স্টেশনে ঢুকে এক কর্মকর্তাকে মারধর করা হয়েছে এবং বিদ্যুৎকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে।
লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে প্রায় ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। ঝড়ে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মুহাম্মদ আব্দুল ফাত্তাহ জানান, বজ্রপাতে ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ার কারণে ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে পানির সংকট, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ব্যাহত হচ্ছে।