ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে সোমবার রাত ১১টায় মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং ফুটবলের নতুন শক্তি জাপান। এই ম্যাচটি নকআউট পর্বের একটি হাইভোল্টেজ লড়াই হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
ব্রাজিলের কিংবদন্তি জিকো বলেন, জাপান যেকোনো পরাশক্তিকে পরাজিত করার জন্য প্রস্তুত। জাপানকে ‘এশিয়ার ব্রাজিল’ বলা হয়, কারণ তারা লাতিন ফুটবলের শৈলী আত্মসাৎ করেছে। ১৯৯১ সালে জিকো জাপানি ফুটবল লিগে যোগ দেওয়ার পর থেকেই জাপানি ফুটবলে লাতিন প্রভাব দেখা যায়।
বর্তমানে জাপানের ফুটবল উন্নতির এক নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। কাতার বিশ্বকাপে তারা ইউরোপের বড় দলের বিপক্ষে গড়ে ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ বল পজেশন ধরে রেখে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের গতির সাথে সাম্বার ছন্দ মিলে একটি আকর্ষণীয় ম্যাচের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
২০০৬ সালের বিশ্বকাপে জাপানের দল ব্রাজিলের কাছে ৪-১ গোলে পরাজিত হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে জাপানের স্কোয়াডের ২৬ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ২৩ জন ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলছেন। এই পরিবর্তন তাদের শক্তি বৃদ্ধি করেছে।
জাপানের কোচ মোরিয়াসু, যিনি ২০১৮ সাল থেকে দলের দায়িত্বে রয়েছেন, জানেন কিভাবে লাতিন ট্যাকটিকস ভাঙতে হয়। তিনি জাপানের স্কোয়াডকে একটি সুশৃঙ্খল দলের রূপে গড়ে তুলেছেন।
অন্যদিকে, ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি দলের বাস্তববাদী ও ঘাতক খেলার কৌশল তৈরি করেছেন। ব্রাজিলের উইং-প্লে এবং কাউন্টার-প্রেসিং তাদের শক্তি। জাপানের ডিফেন্স যদি লিকেজ তৈরি করে, তবে সেলেসাওরা তা কাজে লাগাতে পারে।
এই ম্যাচের আগে, ইতিহাস বলছে, ২০০৬ সালে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ব্রাজিল জিতেছিল। এবার জাপান তাদের দাবির সত্যতা প্রমাণ করতে প্রস্তুত।