গ্রীষ্ম শুরু হলেও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় এখনও প্রায় ১০ লাখ মানুষ তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছে বলে জানিয়েছে নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল (এনআরসি)।
সংস্থাটি জানায়, গাজা ও পশ্চিম তীরে জরুরি আশ্রয় সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়কারী ‘শেল্টার ক্লাস্টার’-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গাজায় প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার পরিবার তাঁবুতে বসবাস করছে। এ ছাড়া প্রায় ৫ হাজার পরিবার খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে এবং ৫২ হাজার পরিবার অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে।
এনআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসেও প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষের জরুরি আশ্রয়সামগ্রী যেমন প্লাস্টিক শিট, প্লাইউড ও দড়ির অভাব রয়েছে। ফলে আশ্রয় সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
সংস্থাটির মতে, গাজায় এই সংকট শুধু আবহাওয়াজনিত নয়; বরং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, বাস্তুচ্যুতি এবং ত্রাণ সহায়তায় বাধার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা আরও বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগও বাড়বে। গ্রীষ্মে দিনের তাপমাত্রা ৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
প্রায় ৯৮৭ দিনের সংঘাতের পরও গাজার লাখো মানুষ এখনও স্থায়ী আশ্রয় থেকে বঞ্চিত। মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, দ্রুত আশ্রয়সামগ্রী সরবরাহ ও পুনর্গঠন কার্যক্রম জোরদার না হলে গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহ নতুন করে মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।