মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা শুরু, প্রথম দিন ফলপ্রসু

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু, প্রথম দিন ফলপ্রসু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা শুরু, প্রথম দিন ফলপ্রসু

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে চলমান দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রথম দিন ফলপ্রসু হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত সপ্তাহে উভয় দেশের মধ্যে প্রাথমিক চুক্তির পর গতকাল সুইজারল্যান্ডের লুসার্নে এই আলোচনা শুরু হয়।

সোমবার (২২ জুন) কাতার ও পাকিস্তানের এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, আলোচনার জন্য গঠিত ‘হাই লেভেল কমিটি’ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য একটি ‘রোডম্যাপ’ তৈরিতে সম্মত হয়েছে। কারিগরি আলোচনা পুরো সপ্তাহ জুড়ে চলবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে একটি ‘কমিউনিকেশন লাইন’ স্থাপন করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের বিউর্গেনস্টক রিসোর্টে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

এছাড়া মার্কিন প্রতিনিধি দলে ট্রাম্পের জামাতা জার্ড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও ছিলেন। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এক মার্কিন কূটনীতিক জানান, আলোচনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বিষয়ে ইরানের কাছ থেকে পাওয়া অস্পষ্ট বার্তাগুলো পরিষ্কার করার দিকে বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পারমাণবিক চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

গত সপ্তাহে হওয়া প্রাথমিক চুক্তিতে ‘সব ফ্রন্টে’ যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। তবে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত থাকায় ইরান গত শনিবার হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়।

এদিকে, সুইজারল্যান্ডের আলোচনা চলাকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, লেবাননে তাদের প্রক্সিদের দিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায়, ইরানকে আবার বড় ধরনের আঘাত করা হবে।

ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের হুমকির জবাবে বলেন, তারা কি মনে করে না যে তাদের হুমকি কাজে লাগলে আজ তারা এমন বেহাল অবস্থায় থাকতো না? মূল পদক্ষেপ তো আমরাই নিচ্ছি।

এ অবস্থায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি দেখালেও লেবাননসহ আঞ্চলিক সংঘাত, পারমাণবিক ইস্যু এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এই দুই দেশ চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।

বিজ্ঞাপন