নোয়াখালী সদর উপজেলায় বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যাতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কালাদরাপ ইউনিয়নের পশ্চিম শুল্লকিয়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে। শনিবার বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন এবং জামায়াতে ইসলামীর ব্যানারে পৃথক বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।
বিকেলে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মিছিল শেষে খবর পান যে, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা পশ্চিম শুল্লাকিয়া গ্রামের দলীয় অফিস ঘরে বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ খবর পাওয়ার পর ছাত্রদলের কর্মীরা সেখানে গিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়।
হামলায় শ্রমিক দলের নেতা মো. হৃদয়ের মাথা ফেটে যায় এবং চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহও আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের কর্মীরা একাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এবং কিছু মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এদিকে, আহত শ্রমিক দলের নেতা হৃদয়ের খবর পেয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের আরও কয়েকশ নেতা-কর্মী সন্ধ্যায় ওই এলাকায় উপস্থিত হন। বিএনপির কর্মীরা চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহর বাড়িতে হামলা চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সুধারাম থানার পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহর ভাই আবির জানান, তাঁর ভাই হামলার সময় স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ছাত্রদলের কর্মীরা এসে তাঁকে মারধর করেন, যা স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধের মুখে পড়ে।
জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, তাঁরা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করছিলেন এবং ফেরার পথে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে অতর্কিতে হামলার শিকার হন।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয় এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব পাঠানো হয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।