বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি স্পেনের ঘরোয়া লিগ 'লা লিগা' বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। এই লিগে খেলেছেন কিংবদন্তি ফুটবলাররা, যেমন ইয়োহান ক্রুইফ, রোনালদো, জিনেদিন জিদান, রোনালদিনহো, এবং বর্তমানের সেরা তারকারা যেমন মেসি, রোনালদো, নেইমার ও এমবাপ্পে।
যদিও লা লিগা তারকায় ভরপুর, স্পেনের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সাফল্য তুলনামূলকভাবে কম। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের আগে, স্পেনের সাফল্য ছিল ১৯৫০ বিশ্বকাপে চতুর্থ স্থান অর্জন। এক যুগান্তকারী সোনালি প্রজন্ম বাদ দিলে, স্পেনের জাতীয় দল বড় মঞ্চে 'আন্ডারঅ্যাচিভার' হিসেবে পরিচিত ছিল।
বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে স্প্যানিশ ফুটবলে 'টিকিটাকা' কৌশলটি জনপ্রিয় হয়, যা পরে স্পেনের জাতীয় দলে রূপ নেয়। ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে এই কৌশলের মাধ্যমে স্পেন দুটি ইউরো এবং একটি বিশ্বকাপ জিতে নেয়। তৎকালীন কোচ ভিসেন্তে দেল বস্কের অধীনে স্পেন ফুটবল বিশ্বকে শাসন করেছিল।
তবে, ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ দলগুলো টিকিটাকা ভাঙার কৌশল আবিষ্কার করে। হাই-প্রেসিং এবং 'লো-ব্লক' কৌশল ব্যবহার করে তারা স্পেনের আক্রমণকে বাধাগ্রস্ত করে। এই পরিস্থিতিতে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর বিরুদ্ধে ১০০০-এর বেশি পাস দিয়েও গোল করতে না পারায় স্প্যানিশ ফুটবলে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়।
বর্তমান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন টিকিটাকার পুরনো খোলস ছেড়ে নতুন আধুনিক ফুটবল খেলতে শুরু করেছে। তরুণ খেলোয়াড় যেমন লামিন ইয়ামাল এবং নিকো উইলিয়ামসের মাধ্যমে তারা উইং-কেন্দ্রিক গতিময় ফুটবলে প্রবেশ করছে। এখন প্রশ্ন হলো, তারা কি এবার বিশ্ব মঞ্চে সফলতা অর্জন করতে পারবে?