নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার বাউসী ইউনিয়নের শাসনউড়া গ্রামে মাত্র ৭ বছর বয়সী এক শিশু প্রতিবেশী কিশোরের পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। চিকিৎসকদের শেষ পর্যন্ত জরায়ু অপসারণ করতে হয়েছে শিশুটির, ফলে সে জীবনভর মা হওয়ার সম্ভাবনা হারিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। পরিবারের অভিযোগ, বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী কিশোর নুরজামাল (১৬) শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ভয়াবহ নির্যাতন করে।
শিশুটি প্রথমে আতঙ্কিত হয়ে কাউকে কিছু বলেনি, বরং তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ফলে সে নীরব কষ্ট সহ্য করতে থাকে।
শিশুটির বাবা সরিকুল ইসলাম জানান, কিছুদিন পর মেয়ের পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। প্রথমে সাধারণ অসুস্থতা মনে করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অসুস্থতা বাড়তে থাকলে ঢাকায় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রামের পর চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির ডিম্বাণু ও জরায়ুতে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। পরে জীবন বাঁচাতে জরায়ু অপসারণের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
শিশুটির বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বাচ্চাটা কোনোদিন মা হতে পারবে না। যে অপরাধ করেছে তার বিচার চাই।’
ঘটনার পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন শিশুটির পরিবার। তারা মামলা না করতে চাপ দিচ্ছে।
নিরাপত্তাহীনতায় শিশুটি ও তার পরিবার বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছে। একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পরিবারকে আইনি সহায়তা ও নিরাপত্তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসান জানান, থানায় এখনও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।