শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

খামেনি হত্যার পর ইরানে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন

খামেনি হত্যার পর ইরানে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি।

খামেনি হত্যার পর ইরানে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করেছে। এই হামলায় দেশটির কয়েকজন উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তাও প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৪টিতে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় ২০১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। দক্ষিণ ইরানের একটি মেয়েদের স্কুলে বিস্ফোরণে বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।

খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরান পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলে। তেল আবিবে আবাসিক ভবন ধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে।

ইরান দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

এছাড়া কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দুবাই ও দোহায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন। বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের আগে তেহরান অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি জানিয়েছেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এই পরিষদ দায়িত্ব পালন করবে।

ইরানের সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা পদ শূন্য হলে একটি অস্থায়ী পরিষদ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। এই পরিষদে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি-এজেই এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন আলেম প্রতিনিধি থাকবেন। একই সময়ে অ্যাসেম্ব্লি অব এক্সপার্টস নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

খামেনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইরাক তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। সরকারি বার্তা সংস্থা ইরাকি নিউজ এজেন্সি প্রকাশিত বিবৃতিতে দেশটির মুখপাত্র বাসেম আল-আওয়াদি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

খামেনিকে হত্যার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন