ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকোট। শনিবার (৭ নভেম্বর) দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ এ ঘোষণা দেন। আগামীকাল (৮ নভেম্বর) জেরুজালেমে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট দেওয়া হবে।
আইজেনকোট সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন, তবে প্রেসিডেন্ট প্রয়োজন মনে করলে এই সময়সীমা ১৪ দিন বাড়াতে পারেন। গত সপ্তাহের নির্বাচনে, ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে, নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন কোনো জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
নতুন সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্টের কাছে জানাতে হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন তিনি। আইজেনকোটের প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে, দ্বিতীয় একজন পার্লামেন্ট সদস্যকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে। দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তির জন্য সময়সীমা ২৮ দিন হবে, তবে বাড়ানোর সুযোগ থাকবে না।
যদি দ্বিতীয় প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তাহলে ২১ দিনের একটি বিশেষ সময়সীমা শুরু হবে। এই সময় অন্তত ৬১ জন পার্লামেন্ট সদস্য প্রেসিডেন্টের কাছে নতুন সরকার গঠনের জন্য অনুরোধ জানাতে পারবেন। আইন অনুযায়ী, সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট ভেঙে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ইতিহাসের আলোকে দেখা যায়, ইসরায়েলে কোনো রাজনৈতিক দলই এককভাবে পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি, ফলে সব সরকারই ছিল জোট সরকার। নির্বাচনে, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী লিকুদ পার্টি ৫৩টি আসন পেয়েছে, অন্যদিকে আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ও তার জোটের অন্য তিনটি দল পেয়েছে ৪৮টি আসন।
আরব নেতৃত্বাধীন দুটি জোট, ইউনাইটেড আরব লিস্ট ও জয়েন্ট লিস্ট, সব মিলিয়ে ১৯টি আসন পেয়েছে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আইজেনকোট প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য ৬৭টি সুপারিশ পেয়েছেন, যেখানে নেতানিয়াহু পেয়েছেন ৪৬টি।