মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
অর্থনীতি

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ৬৭০ পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ৬৭০টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ, দেশের অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি।

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ৬৭০ পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের কারণে দেশের ৬৭০টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রমিকদের এই আন্দোলন দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রপ্তানিকারকরা জানান, এই পরিস্থিতিতে প্রতিযোগী দেশগুলোর কাছে ক্রয়াদেশ চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তৈরি পোশাক খাত দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি অবদান রাখে, যা দেশের জিডিপিতে প্রায় ১০ শতাংশের সমান।

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো কার্যক্রমে লিপ্ত হন। এর ফলে ১৬ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক কাজে যোগ দিতে না পারায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, “মজুরি ঘোষণা হওয়ার আগেই বিশৃঙ্খলা তৈরি করা মানে এখানে অন্য কারও ইন্ধন থাকতে পারে।”

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের ক্রয়াদেশ পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে শ্রম অসন্তোষ থাকলে বিদেশি ক্রয়াদেশ অন্য দেশগুলোর কাছে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি শামীম এহসান বলেন, “ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আমাদের অর্থনীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। নতুন করে বেতন বাড়ানোর ফলে প্রতিযোগিতায় টিকতে সমস্যা হতে পারে।”

গত অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৩৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। সাবেক শ্রম সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, “অস্থিরতা থাকলে দেশের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যাবে।”

গত শনিবার ঢাকার মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যার ফলে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন