গত বছরের জুনে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। এবার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির পাশাপাশি লিস্ট ‘এ’ ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকেও বিদায় জানিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এ অস্ট্রেলিয়ান তারকা। এর ফলে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে আর কখনো খেলতে দেখা যাবে না ডানহাতি এ ব্যাটিং অলরাউন্ডারকে।
ম্যাক্সওয়েল বিদায়ী ম্যাচ খেলতে মেলবোর্নে শেষবারের মতো মাঠে নামার আশা করেছিলেন, তবে তা পূর্ণতা পেল না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট চালিয়ে যাবেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে খেলবেন এবং ২০২৭-২৮ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত দলের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে তাঁর।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৩০ ম্যাচে ২ হাজার ৮৯৭ রান করেছেন ম্যাক্সওয়েল। তিনি দেশের জন্য এই সংস্করণে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৫৪-এর বেশি এবং আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পাঁচটি সেঞ্চুরি রয়েছে, যা সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির যৌথ বিশ্বরেকর্ড।
অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাক্সওয়েল বলেন, “টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ও পরে আমাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কোনো তাড়াহুড়া ছিল না।” তিনি উল্লেখ করেন, অস্ট্রেলিয়া দলের কর্মকর্তারাও তাঁর ওপর কোনো চাপ দেননি।
অস্ট্রেলিয়া চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে। ম্যাক্সওয়েল ভেবেছিলেন, মেলবোর্নে শেষবারের মতো একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন, কিন্তু সেটি হয়নি।
তিনি বলেন, “মনে মনে আশা ছিল, মেলবোর্নে বিদায়ী একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাব। তবে দল যেদিকে এগোচ্ছে, সেটি আমি পুরোপুরি বুঝতে পারছি।”
বিদায়ী ম্যাচের সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপের কথা জানিয়ে ম্যাক্সওয়েল বলেন, “গত ১৫ বছরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট আমার কাছে প্রায় ঘরের মতো হয়ে উঠেছে।” তবে হতাশ হয়ে বসে থাকেননি তিনি। বিগ ব্যাশের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিয়েছেন এবং হাঁটুর চিকিৎসার জন্য ইনজেকশন নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
ম্যাক্সওয়েল বলেন, “ক্যারিয়ারের শেষ কয়েকটি টুর্নামেন্টে ভালোভাবে খেলতে হলে এখন শরীরের পেছনে আরও বেশি সময় ও পরিশ্রম দিতে হবে।” আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর শেষ ম্যাচটি ছিল গত ফেব্রুয়ারিতে ওমানের বিপক্ষে।