রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
স্বাস্থ্য

জিরো ক্যালরি মানেই কি সুগার ফ্রি? স্বাস্থ্যঝুঁকির নতুন গবেষণা

জিরো ক্যালরি পানীয়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নতুন গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে।

জিরো ক্যালরি মানেই কি সুগার ফ্রি? স্বাস্থ্যঝুঁকির নতুন গবেষণা

বিশ্বব্যাপী সম্প্রতি পরিচালিত গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, 'জিরো ক্যালরি' পানীয়গুলো স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। অনেকেই চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের পরিবর্তে 'ডায়েট কোক' বা 'কোক জিরো' গ্রহণ করছেন, কিন্তু এই পরিবর্তন আসলে নিরাপদ কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মিষ্টি স্বাদের খাবার খেলে মস্তিষ্কের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বিভ্রান্ত হয়। 'ডায়েট কোক' এর ক্ষেত্রে, জিহ্বা অতি-মিষ্টি স্বাদ অনুভব করে, কিন্তু পেটে ক্যালরি প্রবেশ করে না। ফলে, মস্তিষ্ক অতিরিক্ত খাওয়ার সংকেত পাঠাতে শুরু করে, যা 'কম্পেনসেশন বিহেভিয়ার' নামে পরিচিত।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ডায়েট সোডা পান করেন, তাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় ৬৭% বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও, মেটাবলিক সিন্ড্রোমের ঝুঁকি ৩৬% বৃদ্ধি পায়।

কৃত্রিম মিষ্টির প্রভাবও মারাত্মক। এটি আমাদের পরিপাকতন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলোর ভারসাম্য নষ্ট করে এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনির ফিল্ট্রেশন ক্ষমতা হ্রাস করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) 'আসপার্টেম' নামক কৃত্রিম কেমিক্যালের কারণে ক্যানসারের ঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছে, যা 'ডায়েট কোক' এবং 'কোক জিরো'তে ব্যবহৃত হয়। ঢাকার গরম আবহাওয়ায় এই কেমিক্যালের ক্ষতিকর উপাদানে রূপান্তরিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির দিক থেকে, 'ডায়েট কোক' এর পরিবর্তে 'কোক জিরো সুগার' নামক পানীয়টি বাজারে এসেছে। এটি কোমল পানীয় কোম্পানিগুলোর একটি গ্লোবাল বিজনেস স্ট্র্যাটেজি, যা স্বাস্থ্য সচেতন গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।

স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক তরল, যেমন পানি, গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ক্যালরি কম মানেই স্বাস্থ্যকর নয়, বরং এটি বিপদের কারণ হতে পারে।

বিজ্ঞাপন