ঢাকার মেট্রোরেলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)। সরকারি ক্রয়প্রস্তাব অনুযায়ী, এই প্যাকেজগুলোর মূল্য প্রায় ১৭ হাজার ৫১২ কোটি টাকা।
এই প্রকল্পের আওতায় এলঅ্যান্ডটি একটি রেললাইন ও বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা তৈরি করবে এবং সংকেত, টেলিযোগাযোগ ও যাত্রীদের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর গড়ে তুলবে।
ঢাকার প্রায় ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল লাইন-১ বাংলাদেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল। এতে বিমানবন্দর ও পূর্বাচল—দুটি রুটে মোট ২১টি স্টেশন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটির অর্থায়নে রয়েছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা, জাইকা। যদিও পুরো কাজ ভারতকে দেওয়া হয়নি, বিভিন্ন প্যাকেজে বাংলাদেশ, জাপান, চীনসহ একাধিক দেশের প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।
এলঅ্যান্ডটির ২৭ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তিতে সুনির্দিষ্ট চুক্তিমূল্য জানানো হয়নি, তবে প্রতিষ্ঠানটি এই কাজকে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার কোটি ভারতীয় রুপির ‘মেজর অর্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এলঅ্যান্ডটি বাংলাদেশের মেট্রোরেল খাতে নতুন নয়, এর আগে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার প্রথম মেট্রোরেল লাইন-৬-এর সমন্বিত রেলব্যবস্থা স্থাপনের কাজ করেছে।
তবে রাজনৈতিক দূরত্বের মধ্যেও ভারতীয় প্রতিষ্ঠানকে এত বড় কাজ দেওয়া হলো কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিতও হতে পারে।
এখন প্রশ্ন, সাধারণ মানুষ এই প্রকল্প থেকে কী সুবিধা পাবে? পরিকল্পনা অনুযায়ী, লাইন-১ চালু হলে বিমানবন্দর, কমলাপুর, নতুন বাজার ও পূর্বাচলের মধ্যে যাতায়াত সহজ হবে। যানজট কমলে কর্মঘণ্টা বাঁচতে পারে।
তবে এসব সুবিধা নিশ্চিত নয়। কাজের সময়সীমা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ও নির্মাণের মান বজায় রাখা জরুরি। চুক্তির শর্ত, ব্যয় ও অগ্রগতির তথ্য জনসমক্ষে রাখা এবং অনিয়মের জবাবদিহি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।