বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের বর্তমান সংকট নিয়ে আলোচনা করতে বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে বিআইবিএমের ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন। সম্মেলনে ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সাবেক উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘নৈতিকতা ছাড়া ব্যাংক খাতের সংস্কার সম্ভব নয়’। তিনি ব্যাংক খাতের সংকট কাটিয়ে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর জন্য কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
ব্যাংকারদের মতে, ব্যাংক খাতে আস্থার সংকটের অন্যতম কারণ হচ্ছে বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা, সুশাসনের ঘাটতি এবং খেলাপি ঋণের চাপ। এবিবি চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন জানান, নির্বাচনের পরও ব্যবসায়ীদের অনিশ্চয়তা কাটেনি, ফলে ব্যাংকগুলো বড় এলসির গ্রাহক পাচ্ছে না।
বিশ্লেষকরা ব্যাংক খাতে লুটপাটের কারণে তৈরি হওয়া অনাস্থার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তারা বলেন, শুধু নীতিমালা পরিবর্তন নয়, বরং আমানতকারীর অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহি বাড়ানোর প্রয়োজন।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিষয়ক পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও আর্থিক খাতের বাইরে’। নতুন আর্থিক সেবা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে আরও উদ্যোক্তাকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনা সম্ভব।
সম্মেলনে বক্তারা ব্যাংকিং খাতের জন্য বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।