রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
অপরাধ

নাশতা নিয়ে মারধরের পর অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু, তদন্ত চলছে

পটিয়ায় নাশতা নিয়ে ঝগড়ার পর অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু, তদন্ত চলছে।

নাশতা নিয়ে মারধরের পর অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু, তদন্ত চলছে

চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাবার বাড়ি থেকে নাশতা কম দেওয়ার কারণে শ্বশুরবাড়িতে মারধরের শিকার হয়ে ৯ দিন পর মারা গেছেন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ সিফাতুন নূর। গত ১৪ অক্টোবর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবার জানায়, সিফাতুন নূর চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভা এলাকার বাসিন্দা এবং প্রায় চার মাস আগে পটিয়ার পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের দুবাইপ্রবাসী তারেকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হন। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে সিফাতুনকে নির্যাতন করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার দিন নাশতা কম দেওয়ার অভিযোগে সিফাতুনের মা ও শাশুড়ির মধ্যে বাক্‌বিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে মারধরের রূপ নেয়। নিহতের বাবার করা মামলার পর পুলিশ শাশুড়ি রিজিয়া বেগমকে আটক করেছে, তবে অভিযুক্ত অন্যরা পলাতক রয়েছেন।

মারধরের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে সিফাতুনের মায়ের সঙ্গে শাশুড়ির ধস্তাধস্তির দৃশ্য ধরা পড়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় সিফাতুনের মা বিলাপ করতে থাকেন এবং পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সিফাতুনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের দাবির কারণে সিফাতুনকে নির্যাতন করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, “৪০০ নাশতা নিয়েও তাদের মন ভরে নাই।”

সিফাতুনের মৃত্যুর পর তার স্বামীর পক্ষ থেকে আত্মহত্যার দাবি করা হয়েছে, যা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, সিফাতুন যদি আত্মহত্যা করতেন, তবে তাকে ৯ দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকতে হতো কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, পারিবারিক মনোমালিন্য ছিল এবং একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। চিকিৎসকের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন