সৌদি আরবের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। নতুন স্থাপনায় বড় আকারের সলিড-ফুয়েল ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা আগের তুলনায় অধিক পাল্লা এবং ভারী ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের দুই গবেষক এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সৌদি আরবের এই উদ্যোগ দেশটির প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াতে এবং ইরানের সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
ইরান-সমর্থিত হুতি যোদ্ধাদের সঙ্গে ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই অস্ত্রগুলো সৌদি আরবের সামরিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে, এই উদ্যোগ আঞ্চলিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে নতুন করে আপত্তি উত্থাপিত হতে পারে, যা মার্কিন কংগ্রেসে আলোচনা সৃষ্টি করবে।
প্ল্যানেট ল্যাবসের স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, আল-দাওয়াদিমি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কমপ্লেক্সে নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানি প্রস্তুত ও ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বিশেষ গর্ত বা কাস্টিং পিট স্থাপন করার জন্য তৈরি।
গবেষকরা জানান, নতুন ভবনটি বর্তমান কারখানার কাস্টিং পিটের তুলনায় অন্তত দ্বিগুণ বড় এবং দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণের প্রভাব থেকে আশপাশের অবকাঠামো রক্ষার জন্য নির্মিত দেয়াল রয়েছে।
ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, সৌদি আরবের এই সম্প্রসারণের উদ্দেশ্য হচ্ছে এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা, যেগুলো অধিক ওজনের ওয়ারহেড বহন করতে পারবে অথবা আরও দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।
কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র সামরিক বাহিনীর জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এগুলো তরল জ্বালানিচালিত ব্যবস্থার তুলনায় দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায় এবং দ্রুত উৎক্ষেপণ করা সম্ভব।