২১ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকারি সেবা ও পরিচিত ওয়েবসাইটগুলো হঠাৎ করে ইন্টারনেট থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। ফিনল্যান্ড সরকারের নাগরিক পোর্টাল, নেদারল্যান্ডসের সংসদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা, এডিনবরা সিটি কাউন্সিল এবং উইকিমিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানের সাইট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
এই ঘটনার পেছনে ছিল বিশ্বের শীর্ষ সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর একটি জরুরি বার্তা। যুক্তরাষ্ট্রের এনএসএ ও সিআইএসএ, যুক্তরাজ্যের এনসিএসসি এবং জাপানের ক্যাবিনেট থেকে সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটরদের কাছে নির্দেশনা দেওয়া হয় যে, অবিলম্বে সফটওয়্যার আপডেট করা সম্ভব না হলে সার্ভারগুলোকে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে।
এই সতর্কতার মূল কারণ ছিল পিএইচপি নামের একটি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের ত্রুটি। ইন্টারনেটের প্রায় ৭০% ওয়েবসাইট পিএইচপির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। সমস্যাটি তৈরি হয়েছিল মেমোরি সামলানোর জায়গায়, যেখানে ‘পিএইচপিটুশেল’ নামের একটি ত্রুটি দেখা দেয়।
এই ত্রুটির কারণে কোনো ওয়েবসাইটে অস্বাভাবিক বড় কোনো ফাইল পাঠানো হলে পিএইচপি ইঞ্জিন তা প্রসেস করার আগেই আটকে যেত। এরপর যখন ইঞ্জিন অতিরিক্ত মেমোরি খালি করার চেষ্টা করত, তখন মেমোরিতে থাকা অসম্পূর্ণ নির্দেশগুলো ভুলবশত চালু হয়ে যেত। ফলে সার্ভার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হতো।
পিএইচপি ফাউন্ডেশন জানায়, ত্রুটি সারাতে হলে পুরো পিএইচপি সফটওয়্যারের নতুন সিকিউরিটি সংস্করণ ইনস্টল করতে হবে। কিন্তু সার্ভার আপডেট করতে গেলে পুরো সিস্টেম পরীক্ষা করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ।
যেহেতু ত্রুটির খবর আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল, তাই নিরাপত্তা দলগুলো দ্রুত ২১ অক্টোবর জরুরি প্যাচ ছাড়ে। ক্লাউডফ্লেয়ারসহ অন্যান্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক ফায়ারওয়ালে ফিল্টার বসিয়ে সাময়িক সুরক্ষার চেষ্টা করে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, ইন্টারনেটের ৭০% হ্যাক হয়ে গেছে, যা প্রকৃতপক্ষে পিএইচপি ব্যবহার করা সাইটের অনুপাত ছিল। তবে ইন্টারনেটে কোনো স্বয়ংক্রিয় ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেনি।
এই ঘটনায় সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে সরাসরি বিপদের সৃষ্টি হয়নি। এটি সাইবার নিরাপত্তার একটি নতুন দিক সামনে এনেছে, যেখানে ওয়েবসাইটের হঠাৎ অফলাইনে চলে যাওয়া মানেই হ্যাকারদের কাছে পরাজয় নয়।